বারবিকিউ করতে গিয়ে বা রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে চারকোল কেনার সময় অনেকেই ভাবেন, চারকোল তো চারকোলই, সব একরকম। আসলে তা নয়। কোন চারকোল ব্যবহার করছেন, তার ওপরই নির্ভর করে রান্না কেমন হবে, কতক্ষণ চলবে, আর কতটা ঝামেলা পোহাতে হবে।
চলুন সহজ করে দেখি, সাধারণ চারকোল আর ব্রিকেট চারকোলের মধ্যে পার্থক্যটা ঠিক কোথায়।
সাধারণ চারকোল কী
বাজারে যে খোলা চারকোল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, সেটা তৈরি হয় সরাসরি কাঠ পুড়িয়ে। টুকরোগুলো ছোট-বড় নানা আকারের হয়। দামে সস্তা বলে অনেকে এটাই কেনেন। কিন্তু ব্যবহার করতে গেলে কিছু সমস্যা সামনে আসে।
দ্রুত পুড়ে যায়। সাধারণ চারকোল সাধারণত ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ। রান্নার মাঝপথে আবার চারকোল দিতে হয়।
ধোঁয়া বেশি হয়। কাঠে থাকা আর্দ্রতা আর কাঁচা উপাদান পুরোপুরি বের হয় না। ফলে জ্বলার সময় ধোঁয়া হয়, অনেক সময় খাবারে বাজে গন্ধও লাগে।
তাপ সমান থাকে না। টুকরোগুলোর আকার এক নয় বলে কোথাও বেশি গরম, কোথাও কম। ফলে রান্নাও অসমান হয়।
গুঁড়ো হয়ে ভাঙে। নাড়াচাড়া করলেই অনেকটা চারকোল গুঁড়ো হয়ে যায়। এই অংশটা আর কাজে লাগে না, পুরোটাই অপচয়।
ব্রিকেট চারকোল কী
ব্রিকেট চারকোল একেবারেই অন্য ধরনের জ্বালানি। টুকরোগুলো ঘন, একই আকারের, নির্দিষ্ট ছাঁচে চাপা — আর ধোঁয়া তৈরির উপাদান ও আর্দ্রতা আপনার হাতে পৌঁছানোর আগেই বের করে দেওয়া হয়। থেকে যায় প্রায় বিশুদ্ধ কার্বন।
এই পার্থক্যটাই ব্যবহারের সময় বড় হয়ে দেখা দেয়।
বেশিক্ষণ চলে। ভালো ব্রিকেট একবার জ্বালালে ৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সমান তাপ ধরে রাখে। বারবার চারকোল দেওয়ার দরকার হয় না।
ধোঁয়া কম। ধোঁয়ার উপাদান তো আগেই সরে গেছে, তাই জ্বলার সময় ধোঁয়া অনেক কম হয়। রান্নাঘর বা ছাদ ধোঁয়ায় ভরে যায় না।
তাপ সমান থাকে। সব টুকরো একই আকারের বলে আগুন সমানভাবে ছড়ায়। তাপ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।
ছাই কম, অপচয় কম। ভালো ব্রিকেটে ছাই থাকে অনেক কম। আর গঠন ঘন বলে সহজে ভাঙেও না।
তাহলে কোনটা বেছে নেবেন
অল্প সময়ের ছোট রান্না হলে আর খরচ একদম কমাতে চাইলে সাধারণ চারকোল দিয়েও কাজ চলে। কিন্তু আপনি যদি চান আগুন বেশিক্ষণ থাকুক, ধোঁয়া কম হোক, রান্না সমান হোক আর ঝামেলা কম হোক, তাহলে ব্রিকেট চারকোল অনেক এগিয়ে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, ক্যাটারিং বা বড় আয়োজনে, যেখানে একটানা তাপ দরকার, সেখানে ব্রিকেটই বাস্তবসম্মত পছন্দ।
সহজ কথায়, দামের হিসাব শুধু কেনার সময়ের নয়। কতক্ষণ চলল আর কতটা অপচয় হলো, সেটাও ধরলে ব্রিকেট চারকোল অনেক সময় বেশি সাশ্রয়ীই হয়ে দাঁড়ায়।
