চারকোল বললে আমাদের মাথায় সাধারণত শুধু রান্নার কথাই আসে। কিন্তু এই চারকোল আসছে কোথা থেকে, সেটাও ভাবার বিষয়। সাধারণ চারকোলের বড় একটা অংশ তৈরি হয় গাছ কেটে, আর তার প্রভাব পড়ে পরিবেশে। এখান থেকেই পরিবেশবান্ধব চারকোলের ভাবনার শুরু।

সাধারণ চারকোলের সমস্যা

বেশিরভাগ সাধারণ চারকোল বানাতে গাছ কাটতে হয়। বছরের পর বছর এভাবে চলতে থাকলে বন কমে যায়, মাটি ক্ষয় হয়, পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। তার ওপর নিম্নমানের চারকোল পোড়ার সময় বেশি ধোঁয়া ছাড়ে, যা বাতাসের জন্যও ক্ষতিকর।

পরিবেশবান্ধব চারকোল কী

পরিবেশবান্ধব চারকোল বানাতে নতুন গাছ কাটতে হয় না। এটা তৈরি হয় এমন সব জিনিস থেকে, যা এমনিতেই ফেলে দেওয়া হতো। যেমন করাত কলের কাঠের গুঁড়া, নারকেলের খোসা বা কৃষি বর্জ্য। এই বর্জ্য চেপে নির্দিষ্ট আকারে এনে, তারপর পুড়িয়ে চারকোল বানিয়ে ফেলা যায়।

অর্থাৎ যা নষ্ট হতো, তা-ই কাজে লাগছে। আর একটাও নতুন গাছ কাটতে হচ্ছে না।

এর সুবিধাগুলো

গাছ বাঁচে। বর্জ্য থেকে তৈরি বলে নতুন গাছ কাটার দরকারই পড়ে না। বন থাকে অক্ষত।

বর্জ্য কমে। করাত কলের গুঁড়া বা কৃষি বর্জ্য সাধারণত ফেলেই দেওয়া হয়, নয়তো পুড়িয়ে ফেলা হয়। সেটাকে কাজে লাগালে বর্জ্যের পরিমাণও কমে আসে।

কম ধোঁয়া। ভালোভাবে বানানো পরিবেশবান্ধব ব্রিকেট চারকোল জ্বলার সময় ধোঁয়া ছাড়ে কম। রান্নার পরিবেশটাও তাই ভালো থাকে।

বেশি কার্যকর। এই চারকোল সাধারণত ঘন আর সমান হয়, তাই জ্বলে বেশিক্ষণ, সমানভাবে। অল্প চারকোলেই বেশি কাজ হয়।

কীভাবে চিনবেন

কেনার সময় জেনে নিন চারকোলটা কী দিয়ে বানানো। প্যাকেট দেখে বা বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন এটা করাত-গুঁড়া বা বর্জ্য থেকে তৈরি কি না। প্রাকৃতিক, রাসায়নিকমুক্ত আর বর্জ্য থেকে তৈরি। এই তিনটা মিললেই বুঝবেন চারকোলটা পরিবেশবান্ধব।

শেষ কথা

পরিবেশবান্ধব চারকোল বেছে নেওয়া মানে শুধু ভালো রান্না নয়, একটু হলেও পরিবেশের যত্ন নেওয়া। রান্নার মান তো ঠিক থাকেই, সেই সঙ্গে গাছ কাটার চাপও কমে। সিদ্ধান্তটা ছোট, কিন্তু প্রভাবটা দীর্ঘমেয়াদি।